0
SUBTOTAL :
কক্সবাজার ভ্রমণের যত কথা

কক্সবাজার ভ্রমণের যত কথা

Price:

Read more

 কক্সবাজার ভ্রমণের যত কথা

 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শাণিত রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। ১২০ কিলোমিটারের সমুদ্র সৈকত ঘিরে প্রচীন ঐতিহ্য এবং দর্শনীয় স্থানের কারণে প্রতি বছর কক্সবাজারে ছুটে আসেন বিপুল সংখ্যক পর্যটক।

 

 

আর শুধু সমুদ্র সৈকত নয় পাশাপাশি রয়েছে বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থানও। 

 

বাংলানিউজের পাঠক এবং ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য তাই কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য।

 

কক্সবাজারের আদি নাম পালংকী। ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স নামের এক কর্মকর্তা ১৭৯৯ সালে এখানে এসে একটি বাজার স্থাপন করেন। আর তার নাম অনুসারে কক্স সাহেবের বাজার এবং পরে  কক্সবাজার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

 

কক্সবাজারের উত্তরে চট্টগ্রাম, পূর্বে-বান্দরবান পার্বত্য জেলা মিয়ানমার, পশ্চিম দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।

 

২৪৯১.৮৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের জেলায় রয়েছে ৫টি নদী। এগুলো হলো- মাতামুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কোহালিয়া নাফনদী।

 

দ্বীপ রয়েছে ৫টি। এগুলো হল- মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, শাহপরীর দ্বীপ সেন্টমার্টিন।

 

প্রাচীন ঐতিহ্য: কক্সবাজার ভ্রমণে আসা পর্যটকরা কক্সবাজারের প্রচীন ঐতিহ্য ঘুরে দেখেন। এর মধ্যে আলোচিত হচ্ছে আজগবি মসজিদ। এটি ১৬০০-১৭০০ খৃস্টাব্দে শাহ সুজার আমলে তৈরি হয়। এটি চৌধুরী পাড়া মসজিদ হিসেবেও পরিচিত। কক্সবাজার পৌরসভার বিজিবি ক্যাম্পের উত্তর দিকে এর অবস্থান। রিকশা কিংবা টমটমযোগে যাওয়া যায় সেখানে। কক্সবাজার পৌরসভার গেইট থেকে ভাড়া পড়বে ৩০ টাকা।

 

প্যাগোড়া (জাদী): ১৭৯০ সালের দিকে বার্মিজরা আরাকান বিজয়ের পর কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় রাখাইন সম্প্রদায় এটি নির্মাণ করেন। তারা এটিকে স্মৃতিচিহ্ন বলেন। কক্সবাজার সদর, রামু টেকনাফের পাহাড় বা উচুঁ টিলায় ধরনের অনেক প্যাগোড়া রয়েছে।

 

অগ্গ মেধা বৌদ্ধ ক্যাং: কক্সবাজার সদরে ছোট বড় মিলিয়ে ৭টিরও বেশি বৌদ্ধ ক্যাং রয়েছে। আগ্গা মেধা ক্যাং মাহাসিংদোগীক্যাং সবচেয়ে বড়। এসবে স্থাপিত বৌদ্ধ মূর্তিগুলো দেখবার মতো। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব বৌদ্ধ পূর্ণিমা, প্রবারণা পূর্ণিমা বিষু উৎসব ক্যাং উদযাপন হয়।

 

রামকোট তীর্থধাম: এটি রামকোট বনাশ্রমের পার্শ্বের পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। ৯০১ বাংলা সনে স্থাপিত। কথিত আছে রাম-সীতা বনবাসকালে এই রামকোটে অবস্থান করেছিলেন। তীর্থধামে মন্দিরের পাশাপাশি আলাদা একটি বৌদ্ধ বিহারে ধ্যানমগ্ন ছোট একটি বৌদ্ধমূর্তিও রয়েছে। জনশ্রুতি আছে, দুটি ধর্ম পাশাপাশি শান্তিতে সহাবস্থানের প্রমাণ স্বরূপ সম্রাট অশোকের সময়ে এই মূর্তি স্থাপিত হয়।

 

ছেংখাইব ক্যাং: রামুর শ্রীকুলস্থ বাঁকখালী নদীর তীরেছেংখাইব ক্যাং (বৌদ্ধ বিহার) অবস্থিত। বৌদ্ধ বিহারে নানা রকম নকশা খচিত আসন কাঁচের পাত্রে সংরক্ষিত ১০টিরও বেশি পিতল এবং আরো অনেক শ্বেতপাথরের মূর্তি শোভা পাচ্ছে। সব মিলে রামু থানায় ২৩টি বৌদ্ধ বিহারে শতাধিক মূল্যবান বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে।

 

কানা রাজার সুড়ঙ্গ: উখিয়া থানার জালিয়া পালং ইউনিয়নে পাটুয়ার টেক সৈকতের কাছে নিদানিয়া পাহাড়ের মধ্যে সুড়ঙ্গ বা গর্ত। সুড়ংগেরব্যাস ১২ও ১২ একটা বড় ট্রাক অনায়াসে সুড়ঙ্গ পথে প্রবেশকরতে পারবে। কথিত আছে, জনৈক মগ সম্প্রদায়ের কানা রাজার (এক চোখ অন্ধ) শাসন আমলে আত্মরক্ষার জন্যেএই সুড়ঙ্গ নির্মাণ করেছিল।

 

মাথিনের কূপ: উপন্যাসিক ধীরাজ ভট্টাচার্য উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে এস.আই. হিসেবে টেকনাফ থানায় বদলী হয়ে এসেছিলেন। তখন টেকনাফের নাম করা রাখাইন জমিদার ওয়াংথিনের একমাত্র আদুরে কন্য মাথিন থানার সামনের কুয়া থেকে নিয়মিত পানি নিতে আসতেন। সকাল বিকাল পানি নিতে আসা ছিল মাথিনের সখ। পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিদিন থানার বারান্দায় বসে বসে অপূর্ব সুন্দরী মাথিনের পানি নিতে আসা যাওয়া দেখতেন। আস্তে আস্তে ধীরাজ ভট্টাচার্যের সঙ্গে মাথিনের চোখা চোখি এবং পরে তা প্রেমে পরিণত হয়।

 

বিয়ে করতে ব্যর্থ হলে, মাথিন বিচ্ছেদের জ্বালায় তিলে তিলে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করে। মাথিনের অতৃপ্ত প্রেমের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী মাথিনের কুপ। টেকনাফথানা প্রাঙ্গণে কূপের অবস্থান।

 

বিশিষ্ট সাংবাদিক আবদুল কুদ্দুস রানা ১৯৯৪ সালে বাঁশের তৈরি কূপটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে জেলা পরিষদ থেকে এদিকে সংস্কার করা হয়। এখন কূপটি দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। সেখানে প্রেমের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসও লেখা রয়েছে। ইদানীং উল্লিখিত কাহিনী অবলম্বনে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে।

 

 

মা অষ্টভূজামহেশখালী আদিনাথ শিব মন্দিরের পার্শ্বে অষ্টভূজা নামে অপর একটি বিগ্রের মূর্তি রয়েছে। কক্সবাজার কস্তুরা ঘাট হতে নৌযানে ৪৫-৫৫ মিনিট আর স্পিডবোটে ১৫-১৮ মিনিট সময় লাগে। মহেশখালীর গোরকঘাটা জেটি হতে রিকশা যোগে আদিনাথ মন্দির যাওয়া যায়।

 

দর্শনীয় স্থান: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, কক্সবাজার শহরের মাহাসিংদোগ্রী বৌদ্ধ, বার্মিজ মার্কেট, অজ্ঞমেধা ক্যাং, রাডার স্টেশন, হিলটপ সার্কিট হাউজ, হিমছড়ি ঝর্না সমুদ্র সৈকত, রামুর বৌদ্ধ বিহার, রাবার বাগান, চকরিয়াস্থ ডুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, টেকনাফের সমুদ্র সৈকত, মথিনের কূপ, সেন্টমার্টিন প্রবালদ্বীপ, ছেঁড়াদ্বীপ, মহেশখালী জেটি, আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া দ্বীপ, কুতুবদিয়া বাতিঘর, উখিয়ার ইনানী সমুদ্র সৈকত কানা রাজার সুড়ঙ্গ।

 

 

পুরো পোস্টটি কয়েক তরফা পড়ি৷ এরপর এডমিনকে ফোন দিই৷ আমার মনে একটাই সন্দেহ ছিল এটা কেমনে সম্ভব! কারণ ঢাকা-কক্সবাজার আপ ডাউন বাস ভাড়াই ৭৫০* ১৫০০ টাকা হয়৷ তাহলে এরা কিভাবে এটা আয়োজন করবে? এরপরে এত বিষয় না ভেবে ঝটপট ৫১০ টাকা বিকাশে পাঠিয়ে বুকিং করি৷ এরপরে ২৬ তারিখে সায়েদাবাদ চলে আসি৷ ভেবেছিলাম বাসের অবস্থা নাজুক হবে। তবে আমি যে বাসে যাই তা বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন মানসম্মত বাস ছিল৷ আর পুরো বাস জার্নিটি বেশ উপভোগ করি।

যাই হোক কক্সবাজার ট্যুরে টি বাস রিজার্ভ করা হয়৷ টোটাল ১৮০+ পর্যটক ছিলাম আমরা। সকাল ৭ঃ১৫ তে কক্সবাজার পৌঁছি৷ সেখানে যাবার পরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি৷

আমরা যেহেতু অনেক পর্যটক ছিলাম তাই এডমিনদের কিছু বিষয় আরো গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিলো। যেমনঃ

) যে হোটেলগুলো নেয়া হয়েছে সেগুলো মানসম্মত ছিল না৷ এগুলো আগে থেকে তদারকির প্রয়োজন ছিল৷ যদিও শুধু মাত্র ওয়াশরুম ব্যবহার আর ড্রেস চেঞ্জের জন্য হোটেল নেয়া হয়৷ তারপরেও সেখানে ওয়াশরুমে সময়মত পানি ছিল না৷ হোটেলের বিছানাগুলো ছিল নোংরা

) হোটেলগুলোতে যেসব রুম বুকিং করা ছিল সেই হোটেল কর্তৃপক্ষদের আগে থেকেই বলা উচিত ছিল যে ১৮০ + লোক হবে তারা যেন আমাদেরকে ওয়েট না করায়৷ বাট সকালে গিয়ে দেখা গেলো যেসব রুম বুকিং ছিল তার মধ্যে কিছু তখনও খালি হয়নি৷ যার কারণে অনেক মেয়ে পর্যটক বেশ অনেক্ক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন৷ যা দেখতেও খারাপ লেগেছে৷ ১০ ঘন্টা বাস জার্নি শেষে এরকমটা করা ভালো লাগেনি।

) মেয়ে পর্যটকদের জন্যে মেয়ে গাইড না রাখাটা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়া হয়েছে।

) সকালের নাস্তা + দুপুরের খাবার যথেষ্ট ভালো ছিল৷ তবে হোটেলে যেহেতু এদিন এত মানুষের চাপ পরবে তারা ভালো করেই জানতো৷ তাই হোটেল কর্তৃপক্ষকে এটা বলা উচিত ছিল যাতে খাবারের টেবিল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে৷ কিন্তু এত মানুষের চাপে সেগুলো অপরিষ্কার ছিল৷ যা খাবার খাওয়ার সময় অনেকেই ইতস্ততবোধ করেছে।

) ইনানী যাবার সময় চাঁন্দের গাড়ি আগে থেকে রিজার্ভ করা উচিত ছিল৷ হোটেলের ওখানে গিয়ে সব পর্যটকদের দাঁড় করিয়ে রাখাটা কিছুটা খারাপ লাগার মত

) ট্যুরটির পোস্টে আগেই বলা হয়েছিলএটি বাজেট ট্যুর তাই এখানে বেশি আরাম আয়েশের চিন্তা মাথায় যাদের তাদেরকে দূরে থাকতে৷ কিন্তু ট্যুরে গিয়ে দেখা গেলো কিছু কাপল এমনভাব করছে যে তারা মনে হয় শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে আসছে৷ এদের জন্য এডমিনদের সময় নষ্ট হইছে বেশি৷ এরা বেশি ন্যাকামি করছে পুরো ট্যুরে৷ আপনারা গেছেন বাজেট ট্যুরে আর ভাব নিছেন ফাইভ স্টার হোটেলের মত৷

) এডমিনদের সংখ্যা কম মনে হয়েছে আমার কাছে৷ দুজন মানুষকেই শুধু দৌঁড়ঝাপ করতে দেখেছি।

) এত বড় ট্যুরে এডমিনরা নিজেদের কাজগুলো ভাগ করে নিতে পারতেন। যেমনঃ বাসের দায়িত্ব কেউ নিতেন, হোটেলের দায়িত্ব কেউ নিতেন, সকালের খাবার, দুপুরের খাবার, মেয়েদের জন্য আলাদা দায়িত্ব ইত্যাদি।

) যেহেতু অনেকের শনিবার অফিস ছিল তাই এডমিনদের উচিত ছিল আগে বাস ছাড়া। এডমিনরা দায়িত্বহীনতা করছে বলে আমার মনে হয়েছে৷ শুধু দৌঁড়ঝাপ করছেন৷  আপনাদের কাজ আরো গুছালো হওয়া প্রয়োজন ছিল৷ অনেকেই শনিবার সময়মত সায়েদাবাদ না আসায় অফিস করতে পারেনি।

সর্বোপরি একজন ভ্রমণ পিপাসু হয়ে বলবো। এই বাজেটে অসাধারণ ট্যুর হয়েছে৷ কিন্তু এডমিনদের আরো মনোযোগী সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল৷ যত বড় ইভেন্ট তত দায়িত্ব তত কাজ৷ তাই এগুলো মাথায় রাখা উচিত ছিল৷ ঠিক তেমনি যত কম বাজেটে ট্যুর হবে তত মানুষ বেশি হবেগেদারিংও বেশি হবে৷ এজন্য উচিত ছিল মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা। কারণ অনেকেই এডমিনদের পেছনে গালমন্দ করেছে৷ সবার এটা মাথায় রাখতে হবে এসেছেন বাজেট ট্যুরে এডমিনকে সহায়তা করা আপনার দায়িত্ব৷ বেশি কিছু আশা করা বোকামি। যাইহোক আমি পুরো ট্যুরটি বেশ উপভোগ করতে পেরেছি৷ কারণ আমি মানসিকভাবে৷ প্রস্তুত ছিলাম যেএটি বাজেট ট্যুর আর এখানে যখন যে সিদ্ধান্ত আসবে তার সাথে মানিয়ে নিতে হবে।

সবাই ভালো থাকবেন। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছি৷ ভুল কিছু বললে জানাবেন৷ ধন্যবাদ🙂

0 Reviews